![](https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi9NUjevM6ngnmfkXSbyCYeGbS2qqRt3NqsX1RnUJruKUwzFLGYXR5VfAZI3_Zrk5FfPLFVCCDS6w38f2OeFfQurdc59nv0oAQYQktbBzIj1qTxHXs-G5LfKmV1r33Ih5GXChQ_-tizdn8/w500-h281/bhanu+poster+final+2+copy.jpg)
মা’কে দাহ করতে গিয়ে শ্মশানে তাঁকে কাঁদতে দেখেও আমরা হেসেছি ১ম পর্ব
![](https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjzu3br8IOtocvabZvw9hoDs_y1_2cGJC8lIsmpcBr44DdoVdhCec4iIR8S6LG-WxPbE_aDIEN1WROqhpn95FktgAstPE5L73gtZWApV__jIkGhrvBxaBezxzswsRSsdXbVaKJyECqIA58/s206/Deb.jpg)
দেবশঙ্কর মুখোপাধ্যায়
সাংবাদিক, কলকাতা
তাঁকে ‘কমেডিয়ান’ বানিয়ে হাত ধুয়ে ফেললাম প্রায় সব্বাই!
তার আড়ালে জেদী, জেহাদী, একরোখা মানুষটির খবর ক’জন রাখার চেষ্টাটুকুই বা করলাম!
অথচ জীবনের প্রত্যেকটা বাঁকে তিনি তেমনই!
পদ্মাপারের কিশোরবেলা। গঙ্গাপারের অভিনয় জীবন। বন্ধু-পরিজন ঘেরা তাঁর রোজের সময়কাল। সবটা, সবটা জুড়ে মাথা-না-নোওয়ানো বেপরোয়া একজন মানুষ।
কমডি-র ‘ক’ নেই, বরং আস্তিন গোটানো গনগনে এক পুরুষ! বেচাল দেখলে একা হাতে বাঁকা আঙুল সিধে করতে যিনি তিলমাত্র ভাবেন না।
কোন গল্প থেকে শুরু করব?
সশস্ত্র বিপ্লবীদের দলে নাম লেখানো কিশোরবেলার সাম্যময় নামের তিনি? নাকি পাড়ার মস্তান, কী বেয়াড়া নেতাকে তেড়ে যাওয়া যৌবন, কিংবা প্রৌঢ়বেলার ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়? অভিনয় জীবনে না-আপসের গল্পই বা তাঁর কম কী সে!
আসব সে সব গল্পে।
শুরু করা যাক প্রায় সব খানে উল্টো পথে হাঁটতে থাকা এক টগবগে যুবকের কাহিনি দিয়ে। বিয়ের তিন দিন বাদে শ্বশুরঘর থেকে মেয়ে এসেছে বাপের বাড়ি। তাকে বাড়ির দোরগোড়ায় নামিয়ে জামাই গিয়েছে কাজে। এ দিকে বিকেল পেরিয়ে সন্ধে গড়িয়ে রাত গভীর। তাতেও জামাইয়ের দেখা নেই। সময়টা ১৯৪৬। ফেব্রুয়ারি মাস। শীতের রাত। রাস্তাঘাট শুনশান। বাড়ির সবাই খেয়েদেয়ে একে একে শুয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শ্বশুরমশাই খুঁজতে বেরোলেন জামাইকে। আর কিছুক্ষণ পরে বাবাজীবনকে আবিষ্কার করলেন কাছেই রাধা ফিল্ম স্টুডিয়োয়। ছেঁড়া চিটচিটে একটা ত্রিপল জড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে। তার ফাঁকফোকর দিয়ে যতটুকু শরীর দেখা যায়, তাতে ভরতি ঝুল, কালি, ময়লা! এক মুহূর্ত আর সময় নষ্ট না করে গরগর করতে করতে বেরিয়ে এলেন তিনি! এই ছেলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন! সেই শ্বশুরের অমন বে-আক্কেলে জামাই-ই পরে বাংলা সিনেমায়, থিয়েটারে জাঁকানো নাম, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়! এ গল্প আমার শোনা ওঁরই সহধর্মিণী নীলিমা দেবীর কাছে। চারুচন্দ্র অ্যাভিনিউ-তে তাঁর স্বামীর তৈরি পুরনো বাড়ির দোতলার চিলতে বসার ঘরে বসে। বছর তিনেক হল নীলিমা দেবী চলে গিয়েছেন। ‘সঙ্গীতশ্রী’ নামের লালমেঝের, বড় উঠোন-দালানের সেকেলে সেই বাড়িটাও আজ আর নেই। বদলে ঝাঁ চকচকে হাল ফ্যাশনের কমপ্লেক্স। যার নাম হয়েছে ‘ভানুশ্রী’। তারই দোতলায় থাকেন ভানু-নীলিমার জ্যেষ্ঠপুত্র, অকৃতদার সত্তরোর্ধ্ব গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। নীলিমা দেবী মানুষটিও কিন্তু কম কৃতী নন। ছোট থেকেই গানের চর্চা ছিল তাঁর। সঙ্গীতজ্ঞ সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ছাত্রী। অন্য পরিচয়ে যিনি মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কাকা। অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর গায়িকাও ছিলেন নীলিমা দেবী। একটি ছবিতে সুরকার নির্মলেন্দু চৌধুরী সুর-টুর করে বেপাত্তা হয়ে যাওয়ায়, শেষে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে গান শেখানোর ভার পড়ে তাঁর ওপর।
তো সেই বিয়ের সময়ের গল্প বলতে বসে নীলিমা দেবী বলেছিলেন, ‘‘আমার বাপের বাড়ি ছিল একেবারে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশের বাড়ি। ‘রাধা ফিল্ম’ কাছেই। যেখানে প্রথম দিকে দূরদর্শনের অফিস ছিল। ভারত লক্ষ্ণী স্টুডিয়োও তাই। যেটা এখন নবীনা সিনেমা। উনি তখন আয়রন অ্যান্ড স্টিল-এ চাকরি করেন। অফিস থেকে ফিরে আমায় পৌঁছে দিয়ে বললেন, ‘রাধা-য় কাজ আছে। আসছি।’ তারপর তো ওই কাণ্ড! রাধা-য় পৌঁছে বাবা ওঁকে তো দেখলেন। শুনলেন শ্যুটিং চলছে। তখনও অনেক কাজ বাকি। এই শুনে বাড়ি ফিরে গুম মেরে বসে রইলেন। আমি আর কত জাগি! খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাত দু’টো, কী আড়াইটের সময় কথাবার্তার আওয়াজ পেয়ে উঠে দেখি, আমার মা তাঁর জামাইকে তোয়াজ করে খাওয়াচ্ছেন। সেই প্রথম ওঁর ছবি করতে যাওয়া।’’ ছবির নাম ‘জাগরণ’। বিভূতি চক্রবর্তীর নির্দেশনা। ডেকেছিলেন উনিই। যেতেই বলেছিলেন, ‘‘দুর্ভিক্ষের সময়কার এক হাড়গিলে চিমসে মার্কা চেহারার লোক। তারই চরিত্রে অভিনয়। করো যদি বলো।’’ শোনা মাত্র রাজি। তারপর তো যা হওয়ার হল। এই যার দ্বিরাগমনের আগে-পরের গপ্পো, এই যাঁর প্রথম ছবিতে অভিনয়ের নেপথ্য কাহিনি, তাঁর জীবন যে সোজা পথে চলার নয়, তা আর বলে দিতে লাগে! তা, বাঁকা তো আন্দাজ পেলেন, কিন্তু কতটা? টের পাওয়াটা বোধহয় অত সহজ কম্ম নয়। একেবারে গোড়া থেকেই না হয়, খান কতক গল্প বলা যাক।
![]() |
বিয়ের ঠিক পরই সস্ত্রীক ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় |
শুরু করা যাক প্রায় সব খানে উল্টো পথে হাঁটতে থাকা এক টগবগে যুবকের কাহিনি দিয়ে। বিয়ের তিন দিন বাদে শ্বশুরঘর থেকে মেয়ে এসেছে বাপের বাড়ি। তাকে বাড়ির দোরগোড়ায় নামিয়ে জামাই গিয়েছে কাজে। এ দিকে বিকেল পেরিয়ে সন্ধে গড়িয়ে রাত গভীর। তাতেও জামাইয়ের দেখা নেই। সময়টা ১৯৪৬। ফেব্রুয়ারি মাস। শীতের রাত। রাস্তাঘাট শুনশান। বাড়ির সবাই খেয়েদেয়ে একে একে শুয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শ্বশুরমশাই খুঁজতে বেরোলেন জামাইকে। আর কিছুক্ষণ পরে বাবাজীবনকে আবিষ্কার করলেন কাছেই রাধা ফিল্ম স্টুডিয়োয়। ছেঁড়া চিটচিটে একটা ত্রিপল জড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে। তার ফাঁকফোকর দিয়ে যতটুকু শরীর দেখা যায়, তাতে ভরতি ঝুল, কালি, ময়লা! এক মুহূর্ত আর সময় নষ্ট না করে গরগর করতে করতে বেরিয়ে এলেন তিনি! এই ছেলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন! সেই শ্বশুরের অমন বে-আক্কেলে জামাই-ই পরে বাংলা সিনেমায়, থিয়েটারে জাঁকানো নাম, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়! এ গল্প আমার শোনা ওঁরই সহধর্মিণী নীলিমা দেবীর কাছে। চারুচন্দ্র অ্যাভিনিউ-তে তাঁর স্বামীর তৈরি পুরনো বাড়ির দোতলার চিলতে বসার ঘরে বসে। বছর তিনেক হল নীলিমা দেবী চলে গিয়েছেন। ‘সঙ্গীতশ্রী’ নামের লালমেঝের, বড় উঠোন-দালানের সেকেলে সেই বাড়িটাও আজ আর নেই। বদলে ঝাঁ চকচকে হাল ফ্যাশনের কমপ্লেক্স। যার নাম হয়েছে ‘ভানুশ্রী’। তারই দোতলায় থাকেন ভানু-নীলিমার জ্যেষ্ঠপুত্র, অকৃতদার সত্তরোর্ধ্ব গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। নীলিমা দেবী মানুষটিও কিন্তু কম কৃতী নন। ছোট থেকেই গানের চর্চা ছিল তাঁর। সঙ্গীতজ্ঞ সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ছাত্রী। অন্য পরিচয়ে যিনি মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কাকা। অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর গায়িকাও ছিলেন নীলিমা দেবী। একটি ছবিতে সুরকার নির্মলেন্দু চৌধুরী সুর-টুর করে বেপাত্তা হয়ে যাওয়ায়, শেষে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে গান শেখানোর ভার পড়ে তাঁর ওপর।
![]() |
সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে নীলিমা দেবী |
তো সেই বিয়ের সময়ের গল্প বলতে বসে নীলিমা দেবী বলেছিলেন, ‘‘আমার বাপের বাড়ি ছিল একেবারে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশের বাড়ি। ‘রাধা ফিল্ম’ কাছেই। যেখানে প্রথম দিকে দূরদর্শনের অফিস ছিল। ভারত লক্ষ্ণী স্টুডিয়োও তাই। যেটা এখন নবীনা সিনেমা। উনি তখন আয়রন অ্যান্ড স্টিল-এ চাকরি করেন। অফিস থেকে ফিরে আমায় পৌঁছে দিয়ে বললেন, ‘রাধা-য় কাজ আছে। আসছি।’ তারপর তো ওই কাণ্ড! রাধা-য় পৌঁছে বাবা ওঁকে তো দেখলেন। শুনলেন শ্যুটিং চলছে। তখনও অনেক কাজ বাকি। এই শুনে বাড়ি ফিরে গুম মেরে বসে রইলেন। আমি আর কত জাগি! খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাত দু’টো, কী আড়াইটের সময় কথাবার্তার আওয়াজ পেয়ে উঠে দেখি, আমার মা তাঁর জামাইকে তোয়াজ করে খাওয়াচ্ছেন। সেই প্রথম ওঁর ছবি করতে যাওয়া।’’ ছবির নাম ‘জাগরণ’। বিভূতি চক্রবর্তীর নির্দেশনা। ডেকেছিলেন উনিই। যেতেই বলেছিলেন, ‘‘দুর্ভিক্ষের সময়কার এক হাড়গিলে চিমসে মার্কা চেহারার লোক। তারই চরিত্রে অভিনয়। করো যদি বলো।’’ শোনা মাত্র রাজি। তারপর তো যা হওয়ার হল। এই যার দ্বিরাগমনের আগে-পরের গপ্পো, এই যাঁর প্রথম ছবিতে অভিনয়ের নেপথ্য কাহিনি, তাঁর জীবন যে সোজা পথে চলার নয়, তা আর বলে দিতে লাগে! তা, বাঁকা তো আন্দাজ পেলেন, কিন্তু কতটা? টের পাওয়াটা বোধহয় অত সহজ কম্ম নয়। একেবারে গোড়া থেকেই না হয়, খান কতক গল্প বলা যাক।
ছবিঃ সৌজন্যে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
মূল ছবির ডিজাইনঃ জয়দীপ সেন
![]() |
এই সেই পুরনো বাড়ি |
(যে কথা না বললেই নয়ঃ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বেশ কয়েকটি লেখা আমি আগে লিখেছি। তবু প্রতিবারই নতুন করে লিখতে গিয়ে মনে হয়, মানুষটিকে চেনা ঘটনার মধ্যেও অন্য ভাবে আবিষ্কার করছি। ২০১৯ সালের পুজোয় ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ একটি লেখা চায়। তখন যে লেখাটি লিখি তাকেই অল্প পরিমার্জন করে এখানে রাখছি, আমাদের ‘আর্কাইভ’ চিন্তাটির কথা মাথায় রেখে— লেখক)
খুব ভালো,
ReplyDeleteধন্যবাদ দাদা,
আমরা নতুন প্রজন্ম অনেক নতুন কিছুই জানতে পারি তোমার থেকে,
এভাবেই কাজ করে যেও....প্লিজ।
ভালো থেকো
Tomaro valo theko
Deleteখুব ভালো দেবশঙ্করদা
ReplyDeleteK ata go?
DeleteWow this is so good and informative!
ReplyDeleteThank you so much dear
ReplyDeleteOshadharon Topic , Ekjon mahan manush ke Jana Chena er theke Bhalo topic hoy naa !! Apurbo protibedan !! salute Alternative Bengal Chapter !!
ReplyDeleteThank you so much
ReplyDelete